অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং -ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং

0
5025

01.অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি

আধুনিক সময়ে অফলাইন মার্কেটিং এর থেকে অনলাইন মার্কেটিং অনেক বেশি জনপ্রিয়। তাই অনলাইনে আয় করার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। সাধারণত চুক্তিভিত্তিক ভাবে কোনো কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা বিক্রি করার মাধ্যমে আয় করাকেই সাধারণত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে।

আপনাকে যদি একটা উদাহরণ দাওয়া হয় তাহলে আপনি আরও ভাল ভাবে বুঝতে পারবেন। যেমন ধরুণ, আপনার শরীরের কোনো সমস্যায় আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন। সাধারণত ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর জন্য আপনাকে একটা প্রেসক্রিপশন দিলেন। তবে খেয়াল করলে দেখবেন ডাক্তার এসব পরীক্ষা করানোর জন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতালের নাম বলবে। আপনি যদি ডাক্তারের কথা মত ঐ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতাল থেকে আপনার পরীক্ষা করান তাহলে ডাক্তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে থাকে। সাধারণত ডাক্তার রোগী পাঠানোর মাধ্যমে যে টাকা আয় করলেন এই বিষয়টিকে সহজ ভাষায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

এবার মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যদি বলতে যায় তাহলে একটা উদাহরণ দিব। যেমন – যদি আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মার্কেটার হিসেবে নিয়োগ কৃত হয়ে থাকেন,তাহলে আপনি কমিশন পাবেন ঠিক তখন, যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে ভিজিটর পাঠাবেন তাদের সাইটে পণ্য কেনার জন্য এবং ক্রেতা সেই পণ্যটি কিনবে, তখন এটা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

 

02.কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা হয়

সাধারণত যখন আপনি একটি অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের কোন পণ্য নির্বাচন করবেন বিক্রির জন্য, বিক্রেতা আপনাকে একটি ইউনিক অ্যাফিলিয়েট কোড দিবে, যেটি কিনা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন আপনার ট্রাফিক এবং টার্গেট ওয়েবসাইট টির ক্ষেত্রে। বেশির ভাগ অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে সাধারণত আপনাকে দিবে তৈরিকৃত ট্যাক্সট লিংক, ব্যানার এবং ফর্মসমূহ, যেখানে আপনাকে আপনার নিজস্ব কোডটি বসাতে হবে এবং আপনার নিজের ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিতে হবে অর্থাৎ যার মাধ্যমে আপনি ট্রাফিক করবেন। তারপর সাধারণত দেখা যায়, আগ্রহী ক্রেতারা আপনার সাইটে দেওয়া লিংক এ যখন ক্লিক করে তখন স্বয়ংকৃত ভাবে তারা পণ্যের সাইটে চলে যায় এবং তারা যদি সেই পণ্য কেনে অথবা তাদের ওয়েবসাইট অর্থাৎ পণ্যের সাইটে ভিজিট করে, যেটার আপনি অ্যাফিলিয়েট করেছেন, তাহলে আপনি চুক্তি অনুযায়ী কমিশন পাবেন।

 

03.কেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হবেন

অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান বিশ্বে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে সবচেয়ে গতিশীল, ক্রমবদ্ধমান এবং সর্ব উত্তম অনলাইন মার্কেটিং টেকনিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কিছু বিষয় আছে যা জানলে আপনি খুব সহজে বুঝতে পারবেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হবেন। আসুন তাহলে একটু ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলি, যা আপনার বুঝতে সুবিধা হবে। খরজ কমঃ সাধারণত অনলাইন মার্কেটিং অনেক কম খরচের কেননা এতে মার্কেটারের কোন উৎপাদন খরচ বা মান নিয়ন্ত্রন খরচ নেই। সাধারণত এর সব কিছু বিক্রেতা করে থাকেন। তবে মজার একটা কথা হল মার্কেটার এর কোন প্রকার ব্যাবসায়িক স্থান এর প্রয়োজন হয় না এবং কোন কর্মচারী নিয়োগ দিতে হয় না। গ্লোবাল মার্কেটঃ আপনি সাধারন মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় মার্কেটিং করতে পারবেন। কিন্তু আপনি অনলাইন মার্কেটিং বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে মার্কেটিং করতে পারবেন। নো ফীঃ সাধারণত অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হতে আপনাকে কোন প্রকার টাকা প্রদান করতে হবে না বা হয় ন। নো স্টোরেজ নো শপিংঃ এটা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সব থেকে মজার বিষয়। কেননা আপনি এখানে মার্কেটিং করছেন কিন্ত আপনার কোন শপ নেই। আপনি চিন্তা মুক্ত থাকবেন পন্যটির ব্যাপারে,কারন পণ্যটি গুদামজাত করা,প্যাকেটজাত করা নিয়ে আপনাকে কোন চিন্তা করতে হবেনা । এর সব কিছু বিক্রেতা করে থাকেন। নো কাস্টমার সাপোর্টঃ আপনি অফলাইন এ কোন প্রোডাক্ট সেল করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে কাস্টমার সাপোর্ট দাওয়া লাগে। কিন্ত অনলাইন এ সাপোর্ট দাওয়া লাগবে না এবং কোন চুক্তিতেও আপনাকে অংশ নিতে হয় না । এটা গ্রাহকের সকল অভিযোগ এর সাপোর্ট বিক্রেতা দিয়ে থাকে আপনার পক্ষ হয়ে। প্যাসিভ ইনকামঃ সাধাররত একটি স্বাভাবিক চাকুরিতে আপনি যতখন কাজ করবেন আপনি ততখন এর থেকে একটি আয় পাবেন। এটা আপনার মার্কেটিং দক্ষতার উপর ভিত্তি করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনাকে ক্রমাগত আয়ের সুযোগ করে দিতে পারে এবং এটা কখনও থামবে না। ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। তার জন্য আপনাকে সব সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হবে এমনটি নয়।

 

04.ট্রাকিং, স্প্লাইট, অপটিমাইজেশন

সেলস ফানেল এ ইনভেস্ট করার আগে অবশ্যই আপনার ফানেল টি কেমন কনভার্ট হয় এইটা টেস্ট করা লাগবে। আপনি অল্প কিছু ট্রাফিক কিনে আপনার ল্যান্ডিং পেইজটি আরও ভালো কনভার্ট হওয়ার জন্য Optimize করতে পারেন। ট্রাফিক ট্র্যাক করার জন্য আপনি Google Analytics,

Clicky.com

অথবা

Hypertracker.com

ব্যাবহার করতে পারেন, কোন ট্রাফিক থেকে আপনি বেশি Subscriber / Lead পাচ্ছেন এইটা বের করতে পারবেন

adtrackzgold.com

এই সফটওয়্যার টি ব্যাবহার করে। একই সেলস ফানেল বিভিন্ন ছবি / কন্টেন্ট / ভিডিও দিয়ে স্প্লিট টেস্ট করে দেখতে পারেন কোন হেডার / ভিডিও / কন্টেন্ট এর দ্বারা সবচাইতে বেশি কনভার্ট হচ্ছে। স্প্লিট টেস্ট করার একটি সহজ সফটওয়্যার হচ্ছে

adtracksgold.com

, টেস্ট এর জন্য ভালো মানের ১০০০ থেকে ২০০০ ক্লিক যথেষ্ট আর এই টেস্ট গুলো করে আপনি সহজেই আপনার সেলস ফানেল কে Optimize করতে পারবেন।

 
05.ট্রাফিক
টেস্ট করে ভালো একটি সেলস ফানেল পেলে ( ভালো মানে অন্তত ৪০% Subscriber পাওয়া যায় ) এর পর আপনি সেই ফানেল এ ট্রাফিক নিয়ে আসবেন। আমাদের সবার ধারনা ” ট্রাফিক” মানেই সবকিছু – ভুল। ভালো সেলস ফানেল ই সব কিছু, কারন ভালো সেলস ফানেল এ ইনভেস্ট করলে রিটার্ন আসে, আর খারাপ সেলস ফানেল এ ইনভেস্ট করলে ক্লিক আসবে কিন্তু সেল আসবে না। ফ্রি ট্রাফিক চাইলে ব্লগ কমেন্ট, রিলেটেড ফোরাম এ একটিভ হওয়া, Yahoo Answer ভালো, তবে বেস্ট হচ্ছে সোশাল মিডিয়া মার্কেটিং। আর পেইড ট্রাফিক চাইলে ভালো হচ্ছে PPC, আর PPC এর জন্য ভালো কিছু সাইট হচ্ছে–

facebook.com
adknowledge.com
adbrite.com
7search.com
bidvertiser.com

এছাড়াও সিন হায়েস এর এই আর্টিকেল টি পড়তে পারেন “The Top 22 Pay-Per-Click PPC Advertising Network”। এছাড়া আপনি google এ “Top PPC networks” সার্চ করলে আর অনেক পাবেন। এছাড়া Banner Ad (Media Buy) থেকে ভালো মানের ট্রাফিক পাওয়া যায়, মূলত ভালো ব্লগ গুলোতে যোগাযোগ করে সরাসরি এড দেয়া ভালো, কিন্তু চাইলে আপনি Media Buy marketplace ব্যাবহার করতে পারেন। কিছু ভালো Media Buy/Sell Market হচ্ছে –

BuySellAds.com
AdEngage.com
ProjectWonderful.com
SiteScout.com
BlogAds.com

এছাড়াও আপনি পেইড ট্রাফিক এর জন্য PPV, CPV, CPVR, SOLO, SWIPE, Mobile Traffic, Agency ইত্যাদি ট্রাফিক মেথড ব্যাবহার করতে পারেন। আপনি চাইলে একটি ব্লগ করে আপনার ব্লগ এ SEO করতে পারেন, এটি অবশই পেইড ট্রাফিক এর মধ্যেই পরবে কারন ভালো ভাবে SEO করাতে আপনার $500 – $1000 খরচ হবে। আপনি SEO করাতে চাইলে oDesk/eLance থেকে SEO Expert হায়ার করে নিতে পারেন, এরা Google এর প্রথম পেইজ এ আছে মানে নিঃসন্দেহে ভালো SEO সার্ভিস দিতে পারবে। বর্তমান এ মোট ২৮ টি ট্রাফিক মেথড রয়েছে, সব গুলোই ভালো কাজ করে, তবে ভালো মার্কেটার রা অল্প কিছু ট্রাফিক মেথড এ master হয়। আপনি ও তাই করেন, যে কোন ১টি অথবা ২টি মেথড এ কাজ করেন, এবং এটা নিয়েই লেগে থাকেন, আস্তে আস্তে আপনার যত ট্রাফিক দরকার আপনার ওই একটি মেথড ই আপনাকে দিতে পারবে। যেমন আমার সকল ট্রাফিক আসে CPVR থেকে, আর এই একটি মেথড এই আমি সব সময় কাজ করি। আবার অনেকেই শুধু FB PPC তে কাজ করছে, ওই একটি থেকেই তার সব ট্রাফিক আসছে। সুতরাং আপনিও শুরু করার জন্য যে কোন ১টি ট্রাফিক মেথড বেছে নিন – ভালো হয় যে কোন PPC নেটওয়ার্ক এ কাজ শুরু করতে পারলে।

 
06.নিশ অথরিটি
সবাই ক্লিক পায় আর কিছু মানুষ সেল পায় – এর কারন টা এইটা আমরা বেশিরভাগ ই যে কোন একটা নিশ সিলেক্ট করে “ক্লিক আনার” যুদ্ধে নেমে পরি! আপনার মার্কেট থেকে সেল নিতে হলে ওই মার্কেট এ আপনার অথরিটি থাকা লাগবে, আপনার ওই নিশ সম্পর্কে দক্ষতা লাগবে, আর এই দক্ষতাই আপনাকে হেল্প করবে ভাল মানের কন্টেন্ট বানাতে, এড লিখতে, ল্যান্ডিং পেইজ বানাতে, ফলোআপ করতে। নিশ সিলেক্ট করার পর অন্তত ১৪ দিন ( ২ সপ্তাহ ) সময় দিন নিশ অথরিটি পাওয়ার জন্য। কিভাবে পাবেন বলছি – যদি আপনার নিশ হয় “Weight Loss” – তাহলে আপনি প্রথমেই খুঁজে বের করবেন এর উপর ভাল মানের ৫ – ৬ টা ব্লগ, ভাল মানের আর্টিকেল গুল সব প্রিন্ট করে ফেলবেন এর পর পরীক্ষার সময় যেভাবে পড়ে নোট নিতেন ঠিক সেইভাবে আর্টিকেল গুল পরবেন, যা যা ভাল লাগবে নোট নিবেন। মার্কেট এ ভাল মানের কি কি প্রোডাক্ট আছে সব গুলোর সম্পূর্ণ সেলস ভিডিও দেখবেন, রিভিও পরবেন, ব্লগ / ভিডিও তে কমেন্ট গুলো পরবেন। সব মিলিয়ে আপনার ভাল ধারনা হবে, মার্কেট এ কি রকম প্রোডাক্ট আছে, মানুষ কি রকম প্রোডাক্ট চায়, তাদের কি সমস্যা, আর কোন প্রোডাক্ট এর কোন গুণাবলি সেই সমস্যা সমাধান এ কাজে দিবে। এছাড়াও আপনি যখন আপনার নিশ সম্পর্কে জানবেন – আপনার নিজের মধ্যে ভাল কনফিডেন্স কাজ করবে, প্রত্যেকটি কাজ সাবলীল ভাবে করতে পারবেন। অন্তত ২ সপ্তাহ ভাল ভাবে নিশ সম্পর্কে পড়াশোনা করার পড় আপনি এর পর এর ধাপ এ কাজ করবেন। আর কাজ শুরু করার পর প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সময় দিবেন নিশ এ নতুন কিছু শিখার জন্য। ভাল হয় যখনি ভালো কোন ভালো আর্টিকেল দেখবেন সাথে সাথে প্রিন্ট করে রাখবেন, আর প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে পরবেন। আপনি আমার এই কথাটি সিরিয়াস নেন আর না নেন, কিন্তু এইটাই সত্যি! আপনি যদি আপনার নিশ সম্পর্কে ভালো ভাবে না জানেন তাহলে আপনি ভালো করতে পারবেন না, আর আপনি যদি প্রতিদিন আপনার নিশ সম্পর্কে নতুন নতুন জিনিশ না শিখেন তাহলে আপনার আয় বাড়বে না। আর একটা কাজ করবেন – যখন ভালো আর্টিকেল দেখেবন, ভালো কোন এড দেখবেন, যা যা ভালো লাগে নোট করে রাখবেন পড়ে আপনার কাজে লাগবে। একটা বেপার মাথায় রাখবেন , আপনি যত কম কম্পিটিশন এর ই নিশ বের করেন না কেন – আপনি যদি না জানেন সেখানে ভালো করার সুযোগ নাই, আর আপনি যেই নিশ ভালো জানেন সেখানে যতই কম্পিটিশন থাক আপনার ভালো করার সুযোগ আছে।
 
 
07.নিশ কি
নিশ কে সহজ ভাষায় বলা যায় “ইন্ডাস্ট্রি”। মার্কেট এ গেলে যেমন দেখা যায় – কাপড় এর দোকান, খাওয়ার দোকান, জিম, বিউটি পার্লার ইত্যাদি। আপনি জানেন ইন্টারনেট এও রয়েছে ফুড এর ওয়েবসাইট, ড্রেস এর ওয়েবসাইট, বিভিন্ন বিউটি প্রডাক্ট ইত্যাদি। এখন খাওয়ার দোকান যেমন হচ্ছে “ফুড ইন্ডাস্ট্রি” এর মধ্যে, একইরকম “ফুড এর ওয়েবসাইট” হচ্ছে “ফুড নিশ” এ। অফলাইন এ ইন্ডাস্ট্রি আর অনলাইন এর ভাষায় “নিশ”। নিশ কে ইন্টারনেট এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও প্রডাক্ট এর ক্যাটাগরি ও বলা চলে। যেমন – “Career & Jobs” এই ক্যাটাগরি তে পরবে যত রকম জব ও ক্যারিয়ার ভিত্তিক ওয়েবসাইট, প্রডাক্ট, সার্ভিস। আপনি যদি কোন ক্যারিয়ার রিলেটেড প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান – উধাহারন সরূপ বলা যায় oDesk যদি প্রমট করেন, তাহলে আপনার নিশ হচ্ছে “Career &Jobs”. উল্লেখ্য অনেকেই হয়তো ভাববেন – oDesk হবে Freelancing ক্যাটাগরি / নিশ এ। হা এইটা সত্য, oDesk আসলেই “Freelancing/Outsorcing” নিশ এ, কিন্তু একই সাথে আবার “Career & Jobs” এও। একটু পেঁচানো মনে হচ্ছে? হওয়াটাই স্বাভাবিক! নিশ এর মধ্যে একটি জিনিষ আছে – সেটা হচ্ছে “সাব নিশ”। এখানে oDesk যদি প্রডাক্ট হয় তাহলে এটির নিশ হবে – Career & Jobs > Freelancing/Outsourcing. অর্থাৎ প্রধান নিশ হচ্ছে “Career & Jobs” আর সাব নিশ হচ্ছে “Freelancing/Outsourcing”। আরও কিছু উধাহারন দেয়া যায় যেমন – Food & Cooking < Recipies অথবা Sports < Football < Shoes। আপনি একটি প্রধান নিশ এর যত ভিতরে যাবেন ( সাব নিশ ) আপনার জন্য তত সহজ হবে কাজ শুরু করা। কিভাবে ও কোথায় আপনার পছন্দের নিশ থেকে ভালো মানের কমিশন ভিত্তিক প্রডাক্ট পাবেন প্রমোশন এর জন্যঃ ভিবিন্ন মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে আপনি আপনার পছন্দ মত প্রোডাক্ট পাবেন আপনার পছন্দের নিশ এ। আপনি একটু গুগল এ সার্চ করলেই অন্তত ৫০টি ভালো মানের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস পাবেন। এছাড়া আপনি শুরু করতে পারেন Jvzoo এ, অথবা LinkShare এ। মার্কেটপ্লেস এ একাউন্ট ওপেন করা, কাজ শুরু করা কোন ব্যাপার ই না, YouTube এ খুঁজলেই অনেক ভিডিও পাবেন। আর আপনি যদি ClickSure এ কাজ শুরু করতে চান, তাও করতে পারেন, তবে আমার মতে শুরু করার জন্য সবচাইতে ভালো হচ্ছে ClickBank. আপনি এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে আপনার মন মত প্রোডাক্ট পাবেন। কিভাবে সেই প্রডাক্ট টি অনলাইন এ মার্কেটিং করে কমিশন আয় করবেনঃ এই ছোট্ট প্রশ্ন টির সঠিক উত্তর আমি আজ ৭ বছর ধরে শিখছি, এখনও মনে হয় কিছুই শিখতে পারিনি। আমি আপনাদের খুব সহজ ভাষায় বলব আর কিছু আইডিয়া দিবো যেন আপনি গুগল ও youtube থেকে নিজ গুনে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। পণ্য টি আপনি ২ ভাবে মার্কেট করতে পারেন। এক হচ্ছে ডিরেক্ট মার্কেটিং, অর্থাৎ সরাসরি কাস্টমার দের প্রোডাক্ট এর সেলস পেইজ এ পাঠিয়ে দিয়ে। আর দ্বিতীয় হচ্ছে একটি সেলস ফানেল করে কাস্টমার দের কন্টাক্ট ইনফো নিয়ে, ওদের প্রোডাক্ট এর গুণাগুণ সম্পর্কে জানিয়ে এর পর প্রোডাক্ট এর সেলস পেইজ এ পাঠিয়ে। ২ টি মেথড ই আমি একটু পরে আলোচনা করবো, তবে যে মেথড এই কাজ করেন – আপনার তিনটি জিনিষ জানা লাগবে তা হল কাস্টমার চেনা (Traffic Targetting) তাদের প্রোডাক্ট পেইজ এ নিয়ে আশা (Drive Traffic) কনভারসন টেকনিক। আর বলা বাহুল্য বেশিরভাগ সফল মার্কেটার সেলস ফানেল এর মাধ্যমে মার্কেটিং এ কাজ করে, আর আমি চাই আপনিও সেলস ফানেল করে কাজ করেন, তবে এর জন্য আপনার জানতে হবে সেলস ফানেল কি ও কিভাবে তৈরি করবেন, যেটা একটু পরেই আমরা আলোচনা করবো। কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কাজ শুরু করবেন? আপনি যদি ডিরেক্ট মার্কেটিং করতে চান, যেটা সর্টকাট অথবা যদি এমন ভাবেন আগে একটু চেষ্টা করে দেখি যদি কিছু নগদ “নারায়ণ” আসে তাহলে ভালো ভাবে শুরু করবো, তাহলে কিভাবে শুরু করবেন বলার খুব একটা কিছু নাই। একটি প্রোডাক্ট সিলেক্ট করেন, আর এর পর ট্রাফিক সেন্ড করেন সেই প্রোডাক্ট পেইজ এ। আর যদি সত্যিকার মার্কেটার এর মত কাজ করতে চান, ক্যারিয়ার করতে চান, তাহলে অবশ্যই সেলস ফানেল করে কাজ করেন। কিভাবে ও কোথা থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কাজ শুরু করবেন।
 
 
08.নিশ সিলেকশন
সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নিশ সিলেকশন। আপনি যদি আপনার জন্য পারফেক্ট নিশ সিলেক্ট না করতে পারেন, তাহলে সফলতার হার কাজ শুরু করার আগেই কমে যাবে! আমরা অনেকেই নিশ সিলেকশন এর জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দেই Keyword Research, Market Analysis ইত্যাদি জটিল সব বিষয় কে আর সহজ একটি জিনিশ ভুলে যাই “আমার কি ভাল লাগে”। যে কোন কাজ এ সফল হওয়ার জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়, আর যদি আপনার টপিক টি আপনার পছন্দের না হয় তাহলে এর উপর প্রচুর পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব। নিশ সিলেকশন এর জন্য আমার বেক্তিগত মতামত হচ্ছে – মার্কেট রিসার্চ, কম্পিটিশন, কীওয়ার্ড ইত্যাদি বিষয় এর চাইতে বেশি গুরুত্ব দেয়া লাগবে – আপনার কি ভাল লাগে, আপনি কি পারেন, আপনার দক্ষতা কোথায় তার উপর। উদাহারন – আপনি হয়ত একজন ওয়েব ডিজাইনার, আপনার নেশা, পেষা, ভালবাসা সব কোডিং আর ডিজাইনিং ঘিরে – কিন্তু সাইড ইনকাম এর আসায় অ্যাফিলিয়েট এ কাজ করার চেষ্টা করছেন “Make Money” তে !! আপনার উচিত আপনার কাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার ভাল লাগে এমন নিশ সিলেক্ট করতে – উদাহারন – আপনার ওয়েব ডিজাইনার হলে আপনার জন্য ভাল হবে – থিম / প্লাগিন এর অ্যাফিলিয়েট করলে। সুতরাং আপনার পছন্দ মত একটি নিশ সিলেক্ট করে ফেলেন, যদি হেল্প লাগে এ বেপারে কমেন্ট এ জানাতে পারেন আপনার কি ভাল লাগে, কি কাজ করেন আপনি – আমি সাজেশন দিয়ে দিবো।
 
 
09.প্রোডাক্ট সিলেকশন
মার্কেটপ্লেস ঠিক করার পর আপনি মার্কেট এর প্রোডাক্ট ক্যাটাগরি থেকে আপনার পছন্দের নিস এর ক্যাটাগরি তে ঢুকে প্রোডাক্ট গুলো কাস্টমার হিসাবে দেখেন। আপনি যদি ” নিস অথরিটি” এর জন্য ২ সপ্তাহ সময় দিয়ে থাকেন, তাহলে ১০ – ১৫ টা প্রোডাক্ট চেক করলে ১টি ভালো প্রোডাক্ট খুঁজে বের করা আপনার জন্য কোন বেপার না। ভালো প্রোডাক্ট কখনও “সার্চ” ভলিউম এর উপর নির্ভর করে না, ভালো প্রোডাক্ট এ “Clear benefit” থাকে, ভালো মানের সেলস পেইজ থাকে, ভালো সাপোর্ট থাকে এবং একি সাথে ভালো রিভিও থাকে। আমি ইভেন্ট এ, ও আমার এডভান্স টিটরিয়াল এ প্রোডাক্ট সিলেকশন এর উপর বিস্তারিত আলোচনা করেছি, আসা করি ব্লগ এও একটি আর্টিকেল দিতে পারব তাড়াতাড়ি। এছাড়া আপনি Google ও YouTube এ “How to select/find a good/profitable product for affiliate marketing/promotion” লিখে সার্চ করলে ভালো রিসোর্স পাবেন।
 
 
10.সেলস ফানেল কি
সেলস ফানেল হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম যেখানে আপনার কোণ পণ্য প্রোমশনের জন্য এবং সেল পেতে সাহায্য করবে। একটু বিষদ আলোচনায় গেলে আপনি ভালো বুঝতে পারবেন। আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার সময় কি করি? প্রথমে যে কোন অ্যাফিলিয়েট মার্কেট প্লেসে একাউন্ট করি। কোন প্রোডাক্ট এর অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক নেই এবং ওই লিঙ্কে ভিজিটর পাঠানো শুরু করে দেই। এবং এভাবে কিছুদিন কাজ করার পর হতাশ হয়ে ফিরে যাই আগের জায়গাতে। এই কাজ করাটা হচ্ছে চরম বোকামি এবং এই কারণেই বেশিভাগ মারকেটার ফেইল করে থাকে। সেলস ফানেল হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম যেখানে আপনি ভিজিটর নিয়ে আসলে আপনার কাস্টমারের একটা লিস্ট তৈরি হবে এবং আপনি যেই পণ্য বিক্রি করতে চাচ্ছেন ওই পণ্যটাও সহজে বিক্রি করতে পারবেন। আমি আমার একটি লাইভ সেলস ফানেল এর উদাহরণ দিচ্ছি। নিচের ছবিটি দেখুন আমি একটি বই তৈরি করেছি “কিভাবে প্রতি মাসে ৫,০০০ ডলার ইনকাম করা যায় তার উপর একটি চিটশীট” ধরি, একটি বইটি আমি ফ্রি দিচ্ছি এবং যখন কেউ এই বইটই ডাউনলোড করতে চাইবে তখন তার ইমেইল অ্যাড্রেস প্রদান করতে হবে। যদি ইমেইল অ্যাড্রেস না দেয় তাহলে সে বইটি পাবেনা। নাম এবং ইমেইল অ্যাড্রেস সাবমিট করে বইটি ডাউনলোড করতে চাইলে তাকে আমি নিয়ে যাচ্ছি এই পেজে। নিচের ছবিটি দেখুন। এখানে আমি তাকে বলছি ধন্যবাদ, আপনি সফলভাবে আপনার তথ্য প্রদান করেছেন। আপনাকে ইমেইল এর মাধ্যমে বইটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়ছে। এবং সাথে আমি তাকে একটি ফ্রি ভিডিও দেখতে বলছি। সে ওই ভিডিও দেখতে যখন ক্লিক করছে তখন আমি তাকে নিচের পেজে নিয়ে যাচ্ছি এবং একটা লাইভ ভিডিও দেখাচ্ছি। এই ভিডিও দেখার পর সে যদি ওই কোম্পানিতে একাউন্ট করে তাহলেই আমি একটি কমিশন পাবো। এবং এটাই হচ্ছে আমার অফার। দেখুন কিভাবে আমি তাকে এঁকের পর এক পেজ ঘুরিয়ে ফাইনালি অফারে নিয়ে আসলাম। এবং ১০০ জন যদি আমার প্রথম পেজে ইমেইল সাবমিট করে ফ্রি বইটি ডাউনলোড করার জন্য তাহলে অন্তত ৫/১০ জন লোক আমার ওই অফারে একাউন্ট করবে। এবং যখন ওই অফারে একাউন্ট করছে আমি কমিশন পাচ্ছি। উপরের এই পুরো জিনিসটি হচ্ছে সেলস ফানেল।

 
      
 
 
আলোচ্য বিষয় সমূহ:
ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং (Freelancing and outsourching)
ফরেক্স ট্রেড (Forex trade)
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social media marketing)
ডাটা এন্ট্রি (Data Entry)
 
 
 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here